চার বছরে মশকনিধনে দুই সিটির ব্যয় ৫৪১ কোটি টাকা
স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় :
১৮-০৮-২০২৬ ০৩:১৯:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৮-২০২৬ ০৩:১৯:১৫ অপরাহ্ন
মশা নিয়ন্ত্রণে গত চার বছরে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ব্যয় ৫৪১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৮৬ কোটি ২৫ লাখ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা।
মশা নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও রাজধানীতে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুর প্রকোপ কমছে না। চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৭০ জনন। এর মধ্যে ৩২ জনই ঢাকার।
আজকের পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানায়, কীটতত্ত্ব গবেষকদের আশঙ্কা, আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সেপ্টেম্বরজুড়ে রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরো বাড়তে পারে।
তাঁদের মতে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে এডিস মশার যে প্রজনন হয়েছে, তা এখন ডেঙ্গু ছড়ানোর উপযোগী হয়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিন দশকে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এ অর্থ ব্যয় হয়েছে মশা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্রপাতি ও ওষুধ কেনা এবং ওষুধ ছিটানোর কাজে। এরপরও রাজধানীতে মশার উপদ্রব কমছে না।
এর আগে ১৯৯৬-৯৭ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত ২৭ বছরে মশার ওষুধ, যন্ত্রপাতি, ওষুধ ছিটানো ও সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যয় হয়েছে ৭৬৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। মশক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়েছে আরো ৫০৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময়ে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ২৭৫ কোটি টাকার বেশি। এত অর্থ ব্যয়ের পরও মশার উপদ্রব ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের মশকনিধন কার্যক্রম এখনো মূলত ওষুধনির্ভর।
একই ধরনের কীটনাশক দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে মশার মধ্যে ওষুধপ্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মশার ওষুধ কেনা ও প্রয়োগে অনিয়ম এবং মানহীন ওষুধ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শুধু কীটনাশক ছিটানো ও ওষুধ কেনার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে সমন্বিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগ নিতে হবে। মশা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনাবিদ, জীববিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আলাদা ইউনিট গঠন করা প্রয়োজন। সনাতনী ওষুধনির্ভর পদ্ধতিতে থাকলে ভবিষ্যতে নগরবাসীর ভোগান্তি আরো বাড়বে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মশকনিধনে ডিএনসিসি ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। আগের অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে যথাক্রমে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ও ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। চার অর্থবছরে ডিএনসিসির ব্যয় ও বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ৩৮৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
অন্যদিকে চলতি অর্থবছরে ডিএসসিসি মশকনিধনে প্রায় ৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যয় করেছে ৩৩ কোটি, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ২২ কোটি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪৫ কোটি টাকা। চার বছরে এ সিটির ব্যয় ও বরাদ্দ প্রায় ১৫৫ কোটি টাকা।
মশা নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ড্রেন-নর্দমায় গাপ্পি মাছ, ঝিল-লেক ও পুকুরে হাঁস ও ব্যাঙ ছাড়া, কদমগাছ রোপণ, ফিঙে পাখির মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণ এবং মশার উৎস শনাক্তে ড্রোন ব্যবহারের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এসব উদ্যোগ মশা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর হওয়ার বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদরা।
কীটতত্ত্ববিদ ও বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির সাবেক সভাপতি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, হাঁস, ব্যাঙ, পাখি কিংবা কদমগাছ রোপণ মশা নিয়ন্ত্রণে অবৈজ্ঞানিক ও কল্পনাপ্রসূত উদ্যোগ। কার্যকর কীটনাশকের পাশাপাশি বিজ্ঞানভিত্তিক নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেন তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স